সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভোটের পরের মাসে রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়েছে: এমএসএফ

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। মার্চ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ৫৬টি ঘটনায় ১৪ জন নিহত হয়েছেন, তার মধ্যে ১০ জনই বিএনেপির।

সংস্থাটির মাসিক মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও তাদের নিজেদের সংগ্রহ করা তথ্যের বরাত দিয়ে এমএসএফ মার্চ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার বিষয়ে বলেছে, এই মাসে ৫৬টি ঘটনায় সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৪০৪ জন ব্যক্তি। সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে নারীসহ ১৪ জন নিহত এবং ৩৯০ জন আহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে বিএনপির ১০ জন ছাড়াও রয়েছেন জামায়াতের ২ জন। এছাড়া ১ জন নারী এবং একজনের রাজনৈতিক পরিচয় সঠিকভাবে জানা যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্বে ৩১টি, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিরোধে ৯টি, বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে ৮টি, বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির দ্বন্দ্বে ২টি, জামায়াতের নিজেদের দ্বন্দ্বে একটি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

সহিংসতার ঘটনাগুলোর মধ্যে পাঁচটি ঘটনায় ভাংচুর হলেও কেউ হতাহত হয়নি।

এমএসএফ বলছে, সহিংসতার বেশিরভাগ ঘটনায় সরকারি দল বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং আধিপত্য বিস্তারের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়, যা জনমনে আতংক তৈরি করছে বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে সংস্থাটি।

গেল ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হয়েছে। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি।

এমএসএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ১৮টি ঘটনায় ১১৩ জন আহত ও দুইজন নিহত হয়েছেন। এ সময় দুস্কৃতকারীদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও পাঁচজন।

রাজনৈতিক সহিংসতা ছাড়াও মার্চ মাসে রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের উপর দুস্কৃতকারীদের হামলায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন বলে এমএসএফের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়াও একজনের অপমৃত্যু ও একজন ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে নিহত হয়েছেন। দুষ্কৃতকারীর হাতে নিহত তিনজনের মধ্যে দুইজন বিএনপির এবং একজন আওয়ামী লীগের কর্মী বা সমর্থক। আর অপমৃত্যু ও ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে নিহত সকলেই বিএনপির।

মার্চ মাসে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আরও দুজনের মৃত্যুর তথ্য উঠে এসেছে এমএসএফের মাসিক প্রতিবেদনে।

সেখানে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে সংঘটিত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার একটি ঘটনায় দুইজন নিহত এবং ৫১ জন আহত হয়েছেন। ২৪ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় নির্বাচনি বিরোধের জেরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে গোয়ালনগর ইউনিয়নের হাবিবুর রহমান ওরফে হাবিবুল্লাহ (৪০) ও আক্তার মিয়া (৫০) নিহত হন।

এই সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে আরও দুজনের মৃত্যুর তথ্য এসেছে প্রতিবেদনে। তাদের মধ্যে একজন যুবলীগের বলে তুলে ধরা হয়েছে।

এই মাসে কারা হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। ফেব্রুয়ারি মাসে কারা হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৩।

নির্বাচিত সরকার এলেও ‘মব’ সৃষ্টি করে হত্যার ঘটনা থামেনি।

এমএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ মাসে অন্তত ৩৬টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ১৯ জন নিহত ও ৩১ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছে।

গণপিটুনির শিকার ১৩ জনকে আহত অবস্থায় পুলিশে দেওয়া হয়েছে। গণপিটুনিতে নিহতের মধ্যে তিনজন ছিনতাইয়ের অভিযোগে, পাঁচজন চুরির অভিযোগে, ছয়জন কথা কাটাকাটির জেরে, দুইজন ডাকাতির অভিযোগে, একজনকে কনটেন্ট ক্রিয়েশন, দুইজনকে জমির সংক্রান্ত বিরোধের অভিযোগে হত্যা করা হয়।

কথিত চুরির অভিযোগে সমাজপতিরা দোষী সাব্যস্ত করে সালিশে ‘মব’ সৃষ্টি করে মারধর করায় পিরোজপুরে একজন অটোরিকশাচালক ও জামালপুরে এক গৃহবধূ বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: